সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের পৃথক অভিযান: অস্ত্র-গোলাবারুদসহ জিম্মি ৫ জেলে উদ্ধার

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:

সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যু নির্মূল ও উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের চলমান বিশেষ অভিযানে দুর্ধর্ষ ‘সাত্তার বাহিনী’র কবল থেকে জিম্মি থাকা ৫ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় পৃথক দুটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে বর্তমানে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়—খুলনার কয়রা থানাধীন সুন্দরবনের আড়শীপসা নদীর গানধার খাল এলাকায় মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে কয়েকজন জেলেকে জিম্মি করে রেখেছে সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত সাত্তার বাহিনী। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ৩ নভেম্বর ভোর ৪টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা ও স্টেশন দোবেকী যৌথভাবে ওই এলাকায় অভিযান চালায়। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দল জিম্মিদের ফেলে সুন্দরবনের গহীনে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে একটি ডিঙ্গি নৌকা থেকে ৪টি দেশীয় ওয়ান শুটার গান, ৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজসহ জিম্মি থাকা ৫ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত জেলেরা হলেন—খুলনার কয়রা থানার বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম (২৭), ফারুক গাজী (৪২), রেজাউল করিম (২৬), নুরুল হুদা (২৩) ও হাসান গাজী (২৭)।

এদিকে, অপর এক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, আরেকটি ডাকাত দল ডাকাতির উদ্দেশ্যে খুলনার দাকোপ থানাধীন সুন্দরবনের কুমড়োখালী খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ৩ নভেম্বর সকাল ১১টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও কোস্ট গার্ড স্টেশন নলিয়ান ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরাও সুন্দরবনের গহীনে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে অভিনব কায়দায় লুকানো অবস্থায় ৪টি একনলা বন্দুক, ১টি ০.২২ ক্যালিবার বন্দুক, ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৫২ রাউন্ড ০.২২ ক্যালিবার বন্দুকের গোলা এবং ২টি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বিসিজিএস তৌহিদের নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্রিফিং প্রদানকারী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মীর আকিব মোস্তাফিজের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় সুন্দরবনকে অতিশীঘ্রই সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে কোস্ট গার্ড আশা প্রকাশ করেছে।