মোরেলগঞ্জে জিপিএফের প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে, দুদকের অনুসন্ধান

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিলের (জিপিএফ) বিপুল অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগের অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাগেরহাট। অভিযোগের পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ২০০ টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে জিপিএফ ফান্ডের হিসাব সংরক্ষণ ও অর্থ লেনদেনের প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও আর্থিক হিসাব যাচাইসহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুদকের বাগেরহাট জেলা সহকারী পরিচালক আবুল কাইয়ুম হাওলাদার একটি টিম নিয়ে মোরেলগঞ্জ হিসারবরক্ষণ অফিস, উপজেলা শিক্ষা অফিস ও সোনালী ব্যাংক মোরেলগঞ্জ পিএলসি শাখা অনুসন্ধানের আওতায় জিপিএফ ফান্ডের হিসাব, অর্থ উত্তোলন ও বিতরণের নথি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের তথ্য এবং লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করেন।
একই সঙ্গে জিপিএফ হিসাবের গরমিল কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—সেটিও অনুসন্ধান করছেন।

এদিকে জিপিএফ ফান্ডের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের পর হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সাবেক চারজন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মীর এনামূল হক,সৌমেন সরকার, মদন কুমার দাস, হাসানুজ্জামান ও দুইজন সাবেক অডিটর শ্যামল কুমার দাস ও রুবেল মোল্লাকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল অফিস আদেশে তাদের সাময়ীক বরখাস্ত করেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পৃথক প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি দুদকের অনুসন্ধানকে গুরুত্বেরই ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে জিপিএফের অর্থ নিয়ে এ ধরনের অভিযোগে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অনেকেরই দীর্ঘদিনের সঞ্চয় এই তহবিলের সঙ্গে যুক্ত থাকায় দ্রুত অনুসন্ধান শেষ করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সন্ধ্যায় দুদক সহকারী পরিচালক বাগেরহাট আবুল কাইয়ুম হাওলাদার সাংবাদিকদের জানান, জিপিএফের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সঙ্গে কারা সরাসরি জড়িত এবং সরকারি অর্থের প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ কত—দুদকের অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছেনা।

দুদকের অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথিপত্র যাচাই শেষে এ ঘটনায় দায়ীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগীরা।